শাহানশাহ্‌ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী

Posted in Uncategorized | Comments Off

চরণদ্বীপ দরবার শরীফ ।। অছিয়র রহমান আল-ফারুকী (ক.)

হযরত মাওলানা শাহছুফী শায়খ অছিয়র রহমান আল-ফারুকী বোয়ালখালী থানার অন্তর্গত চরণদ্বীপ গ্রামে ১২৭০ হিজরী মোতাবেক ১২৫৯ বাংলা, ১২১৪ মঘীর ৭ই মাঘ ১৮৫২ ইংরেজির ২১ জানুয়ারি বুধবার সকালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বুজুর্গ পিতার নাম শায়খ মোহাম্মদ মাজম আল-ফারুকী ওরফে মাগন আলী এবং জননীর নাম মোছাম্মৎ জয়নাব বিবি। শৈশবকালে তাঁর মাঝে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন-তিনি মাতৃদুগ্ধের জন্য কান্নাকাটি করতেন না, মাতৃকোলে পায়খানা-প্রস্রাব করতেন না। তাঁর চেহারার লাবণ্য জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। তার দশ মাস বয়সে তাঁর মাতা পরলোক গমন করেন। তাঁর আদব-কায়দা ও চরিত্র দেখে তাঁর শিক্ষক, প্রতিবেশি জ্ঞানী লোকজন ধারণা করেন এ শিশু কালে একজন মহাপুরুষ হবেন।

স্থানীয় মক্তব হতে শিক্ষা-সমাপন করে তিনি ১২৮৫ হিজরী সনে চট্টগ্রাম সরকারি মাদরাসায় জামাতে পঞ্জুমে ভর্তি হন। অতঃপর তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তার পিতার অনুমতিক্রমে রাজশাহী গমন করেন। ১২৮৯ হিজরী সনে তিনি রাজশাহী সরকারি মাদরাসায় জামাতে উলায় ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে থাকেন। তিনি পরে কোলকাতায় চলে যান এবং কোলকাতা আলিয়া মাদরাসায় জামাতে উলায় ভর্তি হন এবং ১২৯০ হিজরী সনে জামাতে উলায় শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি হাদীস শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে থাকেন। এবং ১২৯৫ হিজরী সনে মাদরাসা স্তরে শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১২৯৬ হিজরী সনে জামেউল উলুম মাদরাসায় প্রভাষক পদে নিযুক্ত হয়ে শিক্ষাদানে রত হন। এভাবে দুই বছর অতিবাহিত হলে তিনি রাসুলে করীম (সা.) কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে আলী গড় থেকে বিদায় নিয়ে কোলকাতায় এসে কোলকাতার অবসরপ্রাপ্ত মোদারেছ কুতুবে জমান হযরত মাওলানা শাহ ছুফি ছফিউল্লাহ সাহেবের খেতমতে হাজির হয়ে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেন। স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনে তিনি বলেন উনি চট্টগ্রাম জেলার মাইজভান্ডার গ্রামের হযরত মাওলানা শাহছুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) ব্যতিত আর কেউ নন। আপনাকে রাসুলে করীম (সা.) দেশে চলে যাওয়ার আদেশ প্রদান করার অর্থ হল, আপনি শীঘ্র হযরত মাওলানা শাহছুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) এর খেদমতে হাজির হয়ে বেলায়তে মোতলাকায়ে আহমদী যুগ প্রবর্তক এর প্রথম খলিফার পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তিমিরাচ্ছন্ন মানবের কলুষিত আত্মাকে হেদায়তের আলোকে উদ্ভাসিত করে তুলবেন। অতঃপর কোলকাতা হতে তিনি নিজ বাড়িতে এসে কিছুদিন ওয়াজ নসিহত করে সময় কাটাতে থাকেন। এর মধ্যে একদা হযরত গাউছে আজম মাওলানা শাহছুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) স্বপ্ন যোগে তাকে দর্শন দান করে বলেন, ‘আমি তোমার অপেক্ষায় আছি। আমার প্রজ্জ্বলিত জ্যোতির্ময় প্রদীপের সাথে মিশে একাত্ম হয়ে যাও। দেশ রসাতলে যাচ্ছে। তৌহিদের পতাকা নিয়ে খাড়া হয়ে যাও। আমার প্রেম ভান্ডারের রত্ন বেলায়তে মোহিত তথা সর্ব-বেস্টনকারী বেলায়ত বিতরণে রত হও। গাউছে আজম মাইজভান্ডারী (ক.) কর্তৃক স্বপ্নদৃষ্ট হয়ে পরদিন তিনি মাইজভান্ডার দরবার শরীফের দিকে যাত্রা করেন। দরবার শরীফে পৌঁছে হযরত গাউছুল আজম শাহছুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) কেবলাকে শ্রদ্ধাবণত অভিবাদন করতে তিনি তার সাথে বক্ষ মিলায়ে নিজ পার্শ্বে বসালেন এবং তার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে হরে নিলেন মন প্রাণ। তিনি হযরত গাউছে আজম মাইজভান্ডারীর প্রেম সমুদ্রে ডুব দিয়ে প্রাপ্ত হন সৌভাগ্যের পরশ মনি। অতঃপর হযরত কেবলা তাকে নিজ মোবারক হাতে কিছু মিষ্টি হালুয়া ও শরবত পান করিয়ে দেন। এতে তাঁর অন্তরে খোদায়ী প্রেম প্রেরণা সৃষ্টি হল, দুনিয়াবী লোভ লালসা ও মায়ামোহ চলে গিয়ে হযরত গাউছে আজম মাইজভান্ডারী (ক.) এর খেদমতে ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল হয়ে পড়েন।

অতঃপর ১৩০০ হিজরী সনে তার মুর্শিদ হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী তাঁকে একখানা চাদর আপাদ মস্তকে পরায়ে দিয়ে খলিফা হিসাবে মনোনীত করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তিনি হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর (ক.) এত্তেহাদী ফয়েজপ্রাপ্ত প্রথম ও প্রধান খলিফা। তিনি তাঁর মুরশিদ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) সহচর্য, ফয়েজ বরকত ও প্রেম প্রেরণা অর্জনে সমর্থ হয়েছিলেন এবং জজব ও ছলুকের সংমিশ্রণে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিলে সচেষ্ট থেকে উন্নতিক্রমে বেলায়তে ছোগরা, বেলায়তে ওছতা, বেলায়তে কোবরা ও বেলায়তে ওজমা তথা সর্বশ্রেষ্ঠ মোকাম লাভ করেন। তিনি তার মোকাম অনুযায়ী সাহেবে তছরোপাত বা প্রভাব বিস্তারে সক্ষম ছিলেন। তিনি অধিকাংশ সময় শান্ত অবস্থায় থাকতেন। তিনি মজুজুবে ছালেক অলিউল্লাহ। তিনি আহমদীয়ূল মশরব ও মোহাম্মদীয়ূল মশরব হতে ফয়েজ হাছেল করতেন। গাউছগণ মোহাম্মদীয়ূল মশরব হয়ে থাকেন। পরে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কুতুবিয়ত প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। হযরত মাওলানা শায়খ অছিয়র রহমান ফারুকী (ক.) খেলাফতপ্রাপ্ত হয়ে নিজ বাড়িতে গিয়ে গদীনশীন হওয়ার পর মাত্র একবারই মাইজভান্ডার দরবার শরীফে এসেছিলেন। তাও তার মুর্শিদ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) ওফাতের ১৬/১৭ দিন পূর্বে। তিনি এত্তেহাদী ফয়েজের বদৌলতে চেহেরা ছুরত পর্যন্ত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) অবয়বতাপ্রাপ্ত হন।

হযরত চরণদ্বীপি (ক.) সম্বন্ধে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর একটি প্রখ্যাত বাণী আছে। তা হলো আমি মাইজভান্ডারী ডুব দিয়ে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে চরণদ্বীপে উঠেছি এবং তথায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। তাঁর এ বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি চরণদ্বীপে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু মসজিদ বলতে আমরা যা বুঝি ঐ ধরনের কোন মসজিদ তিনি তথায় নির্মাণ করেননি। তবে তিনি কোন ধরনের মসজিদ তথায় নির্মাণ করেছেন আর তিনি বলেছেন, তিনি মাইজভান্ডারে ডুব দিয়ে কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীরে চরণদ্বীপে উঠেছেন। তাহলে ধরে নিতে পারি তিনি রূহানী ভাবে ডুব দিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা সাধারণত যেটাকে মসজিদ মনে করি এ ধরনের মসজিদের কথা তিনি বলেননি। তিনি যে মসজিদের কথা বুঝাতে চেয়েছেন তা হল হযরত জালাল উদ্দিন রুমি (ক.) এর নিম্নোক্ত শ্লোকের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে তার বাণীর হাকিক্বত বুঝা যায়।

মসজিদে কো আন, দরুনে আউলিয়াস্ত।

ছেজদা গাহে জুলমা হাস্ত আঁজা খোদাস্ত/ আবলাহা তা’জিমে মসজিদমে কুনন্দ/ দরজফায়ে আহলে দিল্‌ জদ্‌ মিকুনন্দ/ আঁ মজাজ আস্তইঁ হাক্বীকত আই খঁরা/ নিস্ত মসজিদ যুজ দরুনে সরওয়ারা। অর্থাৎ অলীউল্লাহগণের অন্তর্রাজ্যে যে মসজিদ বিদ্যমান তাতেই আল্লাহ বিরাজমান, সাধারণ লোকেরা মজাজী মসজিদে সম্মান করে, কিন্তু অলিউল্লাহগণের উপর যুলুম অত্যাচার করে থাকে। হে বেবুঝ মানুষ! উহা (ইটের নির্মিত) মজাজি মসজিদ আর অলিউল্লাহ গণ হাকিকী মসজিদ, অলীউল্লাগণের অন্তর্রাজ্য ছাড়া কোথাও হাকীকী মসজিদ নেই।
আলহাজ্ব জামাল হোসেন চৌধুরী

Posted in সুফী জীবনি | Comments Off

মাইজভাণ্ডারী তরিকা

তরিকত’ মানে আল্লাহর দিকে বান্দার প্রত্যাবর্তনের পথ। এ পথের দুটি দিক রয়েছে। জাহের ও বাতেন। বাহ্যিক শরিয়ত পালনের মাধ্যমে বান্দা তার জাহেরকে পবিত্র করে আর সঙ্গে সঙ্গে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে হাকিকত, শরিয়ত ও ধর্ম পালনের নিগূঢ়তম উদ্দেশ্য সাধনে ব্রতী হয়। এই চর্চাই সুফি তরিকার মৌলিক ভাব।

‘তরিকত’ ইসলাম ধর্মে কোনো নব আবিষ্কার নয়। ইসলামের প্রথম যুগে আধ্যাত্মিক সাধনার ছায়ায় তরিকতের হাকিকত বর্তমান ছিল। হজরত রাসুল (সা.) সাহাবাদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনার অংশ হিসেবে আধ্যাত্মিক সাধনার তালিম ও তরবিয়াত দিয়েছেন। এমনকি ‘বাইয়াতে ইসলাম’ গ্রহণের পরও সাহাবাদের কাছ থেকে হজরত রাসুল (সা.) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাপারে আবার বায়াত গ্রহণ করেছেন।

আল কোরআনে তরিকত চর্চার হাকিকত

রুহানি উৎকর্ষ সাধনের ভিন্ন ভিন্ন পথ ও পন্থার অস্তিত্বের ইঙ্গিত পবিত্র কোরআনেই রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘যারা আমার পথে সাধনা করে, অবশ্যই আমি তাদের আমার অনেক পথ প্রদর্শন করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ইহসানকারীদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনকাবুত : ৬৯)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা অনেক পথ প্রদর্শন করার কথা বলেছেন।

মাইজভাণ্ডারী তরিকা

ইসলাম ধর্মে আধ্যাত্মিক সাধনার সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় কোরআন ও হাদিসের মৌলিক শিক্ষাকে আশ্রয় ও আত্মস্থ করে অনেক তরিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে। যেমন কাদেরিয়া, মুজাদ্দেদিয়া, নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া ইত্যাদি। এরই ধারাবাহিকতায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে অনুসরণ করে গাউসুল আজম হজরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)-এর আধ্যাত্মিক শক্তি ও শিক্ষাকে ধারণ করে একটি তরিকা প্রচারের সূচনা হয়।

এই তরিকার প্রথম বুজর্গ ও প্রচারক গাউছুল আজম হজরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) নিজগ্রাম ‘মাইজভাণ্ডার’-এর কারণে ‘মাইজভাণ্ডারী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই তাঁর অনুসৃত ও প্রচারিত আধ্যাত্মিক সাধন-পদ্ধতি বা তরিকা ‘মাইজভাণ্ডারী তরিকা’ হিসেবে জনসমাজে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

মাইজভাণ্ডারী তরিকার মানবকল্যাণকামী বৈশিষ্ট্য

এই তরিকা ছিলছিলার দৃষ্টিকোনে কাদেরিয়া তরিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যান্য তরিকার আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যগুলো মাইজভাণ্ডারী তরিকায় একত্রিত হয়েছে।

এই তরিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এ তরিকা ইসলামী ভাবাদর্শকে পরিপূর্ণভাবে আত্মস্থ করার পাশাপাশি একই সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক, উদার ও সংস্কারমুক্ত, নৈতিক ধর্ম-প্রাধান্যসম্পন্ন, শ্রেণী-বৈষম্যহীন ও মানবদরদী।

মাইজভাণ্ডারী তরিকার কর্মনীতি ও শিক্ষা

ইসলাম ধর্মের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন মাইজভাণ্ডারী তরিকার মূল লক্ষ্য। এ তরিকার কর্মনীতির অন্যতম হচ্ছে খেলাফতপ্রাপ্ত পীরে তরিকতের হাতে বায়াত গ্রহণের পর জিকির চর্চার মাধ্যমে নিজ কলবকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা। মানুষের মনে ঐশী প্রেম জাগ্রত করে সুন্দর ও ন্যায়ের পথে জীবন যাপনে মানবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করে মানবতার ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার শিক্ষা ও দীক্ষা দেয়।

মাইজভাণ্ডারী তরিকার অনুসারীদের প্রতি বর্তমান সাজ্জাদানশীনের দিকনির্দেশনা

বর্তমান আধ্যাত্মিক সাধনায় সফলতা লাভের জন্য শরিয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোরারোপ । মুরিদদের সব সময় জানা দরকার , ‘শরিয়তকে বাদ দিয়ে তরিকত নাই।’ তা হচ্ছে নিয়মিত নামাজ পড়া; রোজা রাখা; সামর্থ্য থাকলে হজ-জাকাত আদায় করা অর্থাৎ শরিয়ত পালন করা।

পরিশিষ্ট : ইসলামী সভ্যতার বিকাশে তাসাউফ চর্চা ও তৎসংশ্লিষ্ট ধ্যান-ধারণার অবদান অনস্বীকার্য। যুগ যুগ ধরে সুফি তরিকাগুলো ইসলামী চরিত্র গড়ার একেকটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাইজভাণ্ডারী তরিকা জনসমাজকে ধর্মের মূল সৌন্দর্য্য অবলোকন করিয়ে এর অন্তর্নিহিত শক্তির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এই কার্যক্রমে ইসলামী চরিত্র অর্জনে যেমন সাহায্য করা হচ্ছে, তেমনি অন্য ধর্মের অনুসারীদের সামনে ইসলামের প্রকৃত আহ্বান ও নীতি তুলে ধরার পথ উন্মোচিত হচ্ছে।

শায়খ মুহাম্মদ মুহি উদ্দীন আযহারী
লেখক : প্রধান, পোর্টসমাউথ ইসলামিক সেন্টার, ইউকে

খতিব, পোর্টসমাউথ জামে মসজিদ, ইউকে
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/dhormo/2014/01/24/44657#sthash.65uck0kd.dpuf

Posted in দর্শণ | Comments Off

কাল হযরত আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর ১০৮তম বার্ষিক ওরশ

আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলিয়ে মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারীর ১০৮তম বার্ষিক ওরশ ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে। ওরশ উপলক্ষে মাইজভান্ডার দরবারে ইতোমধ্যে আশেকানে মাইজভান্ডারী ভক্ত সমবেত হতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মাইজভান্ডারী ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন বলে দরবার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আজ বুধবার বিকেলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যানবাহন যোগে ভক্তদের সমাগমে সমস্ত এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ২২ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নাজিরহাট-চট্টগ্রাম বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে।ওরশ উপলক্ষে দরবার শরীফে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ ফজর হজরত মাওলানা আহমদ উলস্নাহ (ক.)’র রওজা শরীফে গোসল, খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আসকার, আখেরী মোনাজাত ও তবারম্নক বিতরণ। এ উপলক্ষ বিভিন্ন মনজিলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভক্তদের চলাচলের স্বার্থে আজ বিকেল থেকে পুলিশ নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে দরবার গেট পর্যমত্ম যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেবে বলে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট পর্যমত্ম ভক্তদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে বলে দরবার সুত্রে জানা গেছে। ওরশ উপলক্ষ ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক হাজার মাইজভান্ডারী-ভক্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ওরশ উপলক্ষে এলাকাজুড়ে গ্রামীণ মেলা বসতে শুরম্ন করেছে। ওরশ সফলভাবে পালনের জন্য বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও প্রগতিশীল ইসলামী জোটের চেয়ারম্যান ফটিকছড়ির এমপি মাইজভান্ডার ওরশ কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।ওরশ উপলক্ষ গত ১১ জানুয়ারি আহমদিয়া মনজিলে পৃথক পৃথক ভাবে প্রশাসনিক প্রস্ত্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আইন-শৃংখলা রক্ষা, দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ, ভ্রাম্যমাণ স্যানিটেশন, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা, ত্বরিত যেকোন বিষয়ে সিদ্ধামত্ম গ্রহণের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আলোকসজ্জাসহ ২৩টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সিদ্ধামত্ম বাসত্মবায়নের জন্য গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের আলহাজ শাহসুফি ছৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সাথে প্রশাসনিক সমন্বয় সভার যাবতীয় সিদ্ধামত্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে যাতে দূরদূরামত্ম হতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে তাদের মনের কামনা বাসনা পূরণ করতে পারে।আন্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারীর সভাপতি শাহসুফি ডা. সৈয়দ দিদারম্নল হক বলেন- ওরশ উপলক্ষ আমাদের যাবতীয় প্রসত্মুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশাকরি অত্যমত্ম সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আমরা ওরশ সম্পন্ন করতে পারব। এব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। প্রতিবারের মত তারাও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে ইনশাআলস্নাহ।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরম্নল ইসলাম বলেন, ওরশ উপলÿÿ আগত ভক্তদের জান মাল নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ আমাদের যাবতীয় প্রসত্মত সম্পন্ন হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর অশেষ কৃপা ও রহমত থাকলে এবারের ওরশ শরীফ খুব ভালভাবে সম্পন্ন করার আশা করছি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখার বিষয়টি আমার উপর বর্ত্তায়। তাই আমি অতীতের শিক্ষা থেকে এবারের আইন-শৃঙ্খলা আরো ভালো রাখার চেষ্টা করছি। কোন কিছুকেই আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। উলেস্নখ্য যে, আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে হযরত সাহেব কেবলার ১০৮তম ওরশের সমাপ্তি ঘটবে।
ইতোমধ্যে ভক্ত অনুরক্তরা দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশে থেকে মাইজভান্ডারে আসতে শুরু করেছেন। এ উপলক্ষে সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (মঃ) ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর (শাহ্‌ এমদাদীয়া) সচিব সৈয়দ আবু তালেব জানান, আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় রওজা শরীফে গোসল ও গিলাপ চড়ানো হবে। কাল সারাদিন ব্যাপী আশেক, জায়েরীনগণের মাজার জেয়ারত, দিবাগত রাত ১২-০১ মিনিটে দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল শাহী ময়দানে বিশেষ মিলাদ, জিকির মাহফিল ও আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (মঃ)।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধা বৃত্তি প্রদান, মেধা বিকাশ কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী (মঃ)। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এএসএম বোরহান উদ্দীন, চট্টগ্রাম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউনুস হাসান, হাটহাজারী কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোজাফফর উদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আহমেদ কবির, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ড. মওলানা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান অবক্ষয়ের সময়ে মাইজভাণ্ডারী তরীকা নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

এদিকে মহান ১০ মাঘ উপলক্ষে গরীব দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, মাইজভাণ্ডারী শাহ্‌ এমদাদীয়া ব্লাড ডোনার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে খতনা ক্যাম্প, মাইজভাণ্ডার ওরশ শরীফ সুপারভিশন কমিটির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধা বিকাশ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জেলা, মহানগর, উপজেলায় তোরণ নির্মাণ, বিভিন্ন চত্বরে ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সর্বোপরি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে বিরাজ করছে।

Posted in Uncategorized | Comments Off

স্মরণ : হযরত মওলানা শাহ্সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.)

হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতাবা (স.)-এঁর নায়েবে রসূল অলিউল্লাহদের বদৌলতে দুনিয়াতে ইসলাম দিন দিন প্রসার লাভ করেছেন। ইসলাম মহান স্রষ্টার মনোনীত পূর্ণাঙ্গ দর্শন, তাই ইসলামী, সূফী সভ্যতাই প্রকৃত কল্যাণকামী মানব সভ্যতা, তথা ইসলামী ‘সূফী সভ্যতার’ মধ্যস্থতায় ইসলামের অভ্যন্তরীণ মর্মবাণী পরিস্ফুটিত ও প্রতিষ্ঠিত এবং ইহাই বিশ্ব ঐক্যের অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে এবং করবে।
এশিয়া উপমহাদেশে বেলায়তের মুকুটধারী বাদশা বেলায়তে মোত্লাকায়ে আহমদীর প্রবর্তক, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী হযরত মওলানা শাহ্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) প্রকাশ হযরত ছাহেব কেবলা কাবা সূফী সভ্যতার দিশারীরূপে সাব্যস্ত। তিনি কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসায় শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হয়ে হিজরী ১২৬৯ সালে যশোর জেলায় কাজীর পদে যোগ দেন। পরবর্তী বছরেই তিনি কাজীর পদ পরিত্যাগ করে কলিকাতার মুন্সী বোঁ আলী (র.) মাদ্রাসার প্রধান মোদাররেছ পদে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং পরে কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পেশায় কর্ম জীবন শুরু করেন।
তিনি নফ্স বা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করে বিল মালামাত বেলায়ত অর্জন করেছেন। সোলতানুল হিন্দ গাউছে কাউনাইন শায়খ সৈয়দ আবু শাহামা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহুরী (রহ.)-এঁর নিকট হতে গাউছিয়তের ফয়জ ও খেলাফত হাছেল করেন। তাঁর পীরে তরিকতের বড় ভাই হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ দেলাওর আলী পাকবাজ (চির কুমার) মোহাজেরে মদনী লাহুরী (র.)-এঁর নিকট হতে কুতুবিয়তের ফয়জ হাছেল করেন। যা গাউছে আজমীয়তের জন্য দরকার ছিল। মূলগত বা প্রকৃতিগত বা জন্মগতভাবে বিনা রিয়াজত ও পরিশ্রমে খোদার নিকট হতে নির্ধারিতভাবে যে বেলায়ত লাভ করেন তাঁর সুবাধে তিনি গাউছুল আজম সাব্যস্ত হন। তাঁর আধ্যাত্মিক গুণাবলী আল্লাহতালার প্রদত্ত্ব ফজিলতে রববানী প্রাপ্ত হয়ে বিশ্ব ত্রাণ কর্তৃত্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আসনে সমাসীন। তাঁর খোদায়ী প্রদত্ত্ব শ্রেষ্ঠত্বের ও প্রভাবশালী ত্রাণ কর্তৃত্বের বদৌলতে মাইজভান্ডার গ্রামখানি মাইজভান্ডার দরবার শরীফ নামে সম্মানিত উপাধিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। প্রায় দেড় শতাধিক বৎসরের ঊর্ধ্বকাল হতে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে হুজুরে পাকের ফজিলতের শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিগণ তাঁর ফয়জ বরকতের স্বীকৃতির নিদর্শন স্বরূপ হযরতের নামীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা, স্কুল, রাস্তা ইত্যাদি জনহিতকর প্রতিষ্ঠানাদি স্থাপন করে স্মৃতি বিদ্যমান রেখেছেন। তিনি এমন এক খোদায়ী প্রদত্ত্ব শ্রেষ্ঠত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি জনগণের না হওয়ার মত কাম্য বস্ত্তকে খোদার ইচ্ছা শক্তিতে তাঁর গাউছে আজমিয়তের প্রভাবে হওয়ার রূপ দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। কামালিয়তের বা বুজুর্গীর কোন প্রশংসা তাঁর বুজুর্গীতে বাদ পড়ে না। তাঁর সাথে হযরত খাজা খিজির (আ.)-এঁর সাথেও খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর সমসাময়িক সুধীবৃন্দ বুজুর্গানে দ্বীনে মতীনদের মধ্যে অনেকে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.)-এঁর সম্বন্ধে উচ্চ মন্তব্য করেছেন। এই দেশের বড় বড় আলেম-ফাজেল্রা কিরূপ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তা তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। তাঁর তরিকা গ্রহণকারীরা সহজ উপায়ে জিকিরের মাধ্যমে নফ্ছে আম্মারা হতে কামেলা ও ‘উছুলে সাবয়া’ সপ্ত পদ্ধতির মধ্যস্থতায়, আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের জন্য স্মরণ, আমল এই দু’টাকে খুব সহজ-সুন্দরভাবে সমন্বয় করে কথায়, কাজে ও আচরণে বিশ্ব মানবতার সামনে তুলিয়ে ধরেছিলেন। যার ফলে তাঁর অলৌকিকতা, ত্রাণ কর্তৃত্ব, যশঃকীর্তি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন হাজতী মকছুদি প্রভৃতি রূহানী ও মানবতার উন্নয়নকামী দীক্ষা প্রার্থী জনতার ভিড় বাড়তে লাগল। অল্প দিনের মধ্যে তাঁর সাহচর্যে ও খেদমত-ছোহবতের বরকতে বহু লায়েক আলেম এবং খোদাপ্রেম পেয়ারা জনগণ কামেল বা পূর্ণ মানবতা প্রাপ্তে হাল জজ্বায় খোদাপ্রেমে মত্ত অলি-উল্লাহগণ বাংলা, বার্মা, পাকিস্তান এবং সমগ্র উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেন।
তাঁর দুই ভ্রাতার দুই পুত্রও তাঁর ফয়েজ-বরকত লাভে কামালিয়তের উচ্চাসন লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে দ্বিতীয় ভ্রাতার দ্বিতীয় পুত্র হযরত মওলানা শাহ্ ছূফী সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াছেল মাইজভান্ডারী (ক.) ছাহেব গাউছিয়ত ধারামতে ফয়েজ প্রাপ্ত ‘কুতুবে এরশাদ’ ছিলেন। তৃতীয় ভ্রাতার দ্বিতীয় পুত্র গাউছুল আজম বিল বেরাছত, হযরত মওলানা শাহ্ ছূফী সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভান্ডারী (ক.) ছাহেব কেবলা কুতুবুল আক্তাব ছিলেন। তাঁর পবিত্র বংশধর খাছ আওলাদ তাঁর পৌত্র সাজ্জাদানশীন, তাঁর পবিত্র গদী শরীফের স্থলাভিষিক্ত, শজরা শরীফের ধারাবাহিকতায় শরাফতের মালিক হযরত মওলানা শাহ্ ছুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (ক.) সোলতানে আউলিয়া ছরদারে আউলিয়া হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন।
অনুরূপভাবে তাঁর পবিত্র গদী শরীফে বিগত ১৯৭৪ ইংরেজি সালে হযরত কেবলা কাবার বাণী অনুযায়ী গাউছিয়ত সরকার মনোনীত করে, তাঁর পবিত্র বংশধরের মধ্যে তৃতীয় পুত্র সোলতানুল অলদ্ সৈয়দুল আছফিয়া আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ্ ছূফী সৈয়দ এমদাদুল হক (ম.জি.আ) ছাহেবকে তাঁর পবিত্র গদী শরীফে বসাইয়া হযরত কেবলা কাবার রাজ রহস্য তাৎপর্য মূলক ব্যবহৃত হরিত্রী রং-এর পবিত্র শাল মোবারক তাকে পরিয়ে দেন এবং তিনি নিজেই মনোনীত করে সাজ্জাদানশীন ও স্থলাভিষিক্ত মনোনয়ন খেলাফত প্রদান, গদী শরীফ অর্পণ করেন। তা সকলের অবগতির জন্য ১৯৭৫ সালে ‘জরুরী বিজ্ঞপ্তি’র মধ্যে লেখেছেন ‘এতদ্সঙ্গে আমি ঘোষণা করতেছি যে, আমার অবর্তমানে হযরতের হুজুরা শরীফে আমার গদীর উত্তরাধিকারী বর্তমান নায়েব সাজ্জাদানশীন সৈয়দ এমদাদুল হককে আমি মনোনীত করে আমার স্থলাভিষিক্ত করলাম। শিক্ষা-দীক্ষা শজরাদান এবং ফতুহাত নিয়ন্ত্রণ অধিকার সম্পন্ন, এই গাউছিয়ত জারী-সফলতা দানকারী সাব্যস্ত করলাম’।
হযরত কেবলা কাবা খাতুল অলী ও অলদ্। তিনি বিশ্ববাসীর জন্য খোদার বিশেষ দান ‘ফয়জে মোজাররদ’। পুকুরের মত কারো দ্বারে তিনি যাননা কিবা কারো মুখাপেক্ষিও তিনি নহেন। সকলই তাঁর দ্বারস্থ। তৃষ্ণাতুর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকামী জনগণ প্রত্যেকে প্রত্যেকের যোগ্যতার ভান্ড লইয়ে তাঁর নিকট আসতে হয় এবং পাত্র অনুযায়ী তাঁর দান নিয়া যায়। এই মহান গাউছুল আজমের পবিত্র শরাফতের কারণে তাঁর স্মৃতিবার্ষিকী ‘ওরশ শরীফ’ প্রতি বছর ১০ই মাঘ ২৩ জানুয়ারী মহাসমারোহে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলে তাঁর হুজুরা শরীফের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৪

http://www.dainikpurbokone.net/index.php/-lfontglfont-colorq5a5757qg-lfontg/2013-08-21-19-07-00/16138-2014-01-21-18-32-22

Posted in Uncategorized | Comments Off

“মাইজভাণ্ডারী সাত নীতি”

হযরত মুসা (আঃ) কে আলাহ্‌তায়ালা দশটি অনুশাসন বিধি দান করেছিলেন যা ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ হিসেবে পরিচিত। মাইজভান্ডারী দর্শনে সাতটি ধাপ বা সিঁড়ি রয়েছে যা ‘উসুলে সাবআ’ বা সপ্তকর্ম পদ্ধতি নামে অভিহিত। আসলে এসব নীতি পদ্ধতি নতুন কিছু নয়। এটা কোরআন, হাদীস ও সূফিবাদের মৌল নির্যাস থেকে আহরিত। ব্যক্তি জীবনে এই নীতি-আদর্শ চরিত্রগতভাবে অর্জিত হলে সাধক খিজরী শক্তিসম্পন্ন অলি-আল্লাহ্‌র মর্যাদায় উন্নীত হয়। এমন সাধকের নিকট জীবন জগতের যাবতীয় রহস্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। তাঁরা আলাহ্‌ প্রদত্ত ‘কুন্‌ ফায়াকুন’ শক্তির অধিকারী হলে ‘না হওয়া’ ‘না পাওয়া’ কোন কিছুকে তাঁদের ইচ্ছা শক্তিতেতে সক্ষম। এই কর্মসূচি শুধু ব্যক্তি জীবনে নয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বলয়েও ফলপ্রসূ হতে পারে।

এই দর্শনের ‘উসুলে সাবআ’ − সপ্তকর্ম পদ্ধতিগুলো হচ্ছেঃ

(১) ফানা আনিল খালক্‌ বা আত্মনির্ভরশীলতা

(২) ফানা আনিল হাওয়া বা অনর্থ পরিহার

(৩) ফানা আনিল এরাদা বা প্রবৃত্তি প্রসূত ইচ্ছা শক্তির বিনাশ

(৪) মাউতে আবইয়াজ বা সাদা মৃত্যু

(৫) মাউতে আছওয়াদ বা কালো মৃত্যু

(৬) মাউতে আহমর বা লালমৃত্যু

(৭) মাউতে আখজার বা সবুজ মৃত্যু।
ফানা আনিল খালক্‌ − আত্মনির্ভরতা

ব্যক্তি জীবনে : কারো কাছে কিছু চাওয়া বা প্রত্যাশা করা ভিক্ষার মত হীন কাজ। এতে স্রষ্টা প্রদত্ত সহজাত শক্তি বিকশিত না হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে নৈতিক উদ্যম, সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়। এইজন্য সবকিছুতেই পরনির্ভরতা বর্জন করে আত্মনির্ভর হতে বলা হয়েছে। ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনে এটা ছাড়া উন্নতির কোন বিকল্প নাই।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : জাতীয় সম্পদ ও শ্রমশক্তির যথাযথ ও সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিদেশী ঋণ নির্ভরতা পরিহার করা। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত গবেষণা খাতে মনোযোগী হওয়া। জাতীয় কৃষি, শিল্প, খনিজ সম্পদের উন্নয়ন। মৌলিক ও কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সৃষ্টি, স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইত্যকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে সমন্বিত করে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ”ওয়ার্ল্ড স্টেটস্‌ কো-অপারেটিভ ব্যাংক” বা ”বিশ্ব রাষ্ট্রীয় সমবায় ব্যাংক” প্রতিষ্ঠা করা। এতে জাতীয় আয়ের অনুপাতে সদস্য চাঁদা নির্ধারণ করে দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোকে সহজ শর্তে ঋণদান করে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করা।
ফানা আনিল হাওয়া − অনর্থ পরিহার

ব্যক্তি জীবনে : পরনিন্দা, গীবত, চোগলখোরী, অপব্যয়, অপরের কাজে নাক গলানো, সামর্থ সত্ত্বেও কর্মহীন জীবনযাপন করা, বিশৃংখলার আশংকা আছে এরূপ কাজ বর্জন করা অর্থাৎ উপকারহীন সকল কাজ ও কথাবার্তা বর্জন। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান এ তিনটি মানুষের মৌলিক চাহিদা। এরপর স্বাস্থ্য রক্ষা ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা। বর্তমান যুগের মানুষ শুধু এগুলোতে সন্তুষ্ট নয়। জীবনে তারা আরো অনেক কিছু চায়। যান্ত্রিক সভ্যতা মানুষের ভোগের নানা উপকরণ সৃষ্টি করে জীবন পদ্ধতি গতিশীল করেছে। কিন্তু কতেক ভোগ্যপণ্যের লোভ সারা বিশ্বের মানুষকে পাগল-প্রায় করে তুলেছে। তাই মানুষে-মানুষে রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে একে অপরকে ঠকানোর নানা ফন্দি-ফিকির, বিশ্বব্যাপী এতো দ্বন্দ্ব-সংঘাত-যুদ্ধ ও হত্যা ইত্যাদি। এজন্যে গাউসিয়াত নীতি মানবজাতিকে আহ্বান জানায় ”সাধারণ চাহিদার অতিরিক্ত সব অনর্থ পরিহার কর”। এ পথেই সম্ভব প্রকৃত শোষণহীন সুস্থ সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা। এ প্রসংগে পবিত্র কোরআনের ঘোষণা ”যে কেউ অনর্থ পরিহার করে সে নিশ্চিত স্বর্গবাসী”।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : পারমাণবিক দ্রব্য আমদানী ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ অথবা নিষিদ্ধ করা। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন। ধোঁকা দেওয়ার রাজনীতি পরিহার করা।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : পারমাণবিক, রাসায়নিক, জৈবিক অস্ত্র উৎপাদন নিষিদ্ধ করা। মজুদকৃত সকল মারণাস্ত্র ধ্বংস করে ফেলা।
ফানা আনিল এরাদা − প্রবৃত্তিপ্রসূত ইচ্ছার বিনাশ

ব্যক্তি জীবনে : নিজের প্রবৃত্তিপ্রসূত ইচ্ছাকে বিলীন করে স্রষ্টার ইচ্ছা তথা তকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। দুঃখ কষ্ট ও রোগ শোকে দিশেহারা হয়ে মানুষ বিমর্ষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। এমনকি কেউ কেউ আত্মহত্যাও করে। অথচ এভাবে সমস্যার কোন সমাধান হয় না, বরং দুঃখই বাড়ে। মানুষের ইচ্ছানুযায়ী সবকিছু হয় না। যেহেতু তার শক্তি সীমাবদ্ধ, তাই অনন্ত অসীম স্রষ্টার মঙ্গলদায়ক ইচ্ছাশক্তির নিকট নিজ স্বার্থ ও ইচ্ছাকে অবনত করে ধৈর্যধারণ করতে গাউসিয়াত নীতি নির্দেশ করে। পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে ”নিশ্চয়, আলাহ্‌ ধৈর্যশীলদের সংগে থাকেন”। ব্যক্তি জীবনে প্রথম স্তরের এ তিন কর্মপন্থা পাপ বিতাড়নকারী।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় তহবিল, মালামাল বা সুযোগ সুবিধা ব্যবহার না করা। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করা। প্রভাব ও প্রভুত্ব বিস্তারের লক্ষ্যে নিজ ক্ষমতাকে ব্যবহার না করা। যে কোন পরাজয়, বিফলতা, অনাস্থা ও জনমতকে উদার চিত্তে গ্রহন করে নেয়া।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : যে কোন রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তারের লক্ষ্যে গঠিত বিভিন্ন সামরিক জোট ভেঙ্গে দেয়া।
মউতে আবইয়াজ − সাদা মৃত্যু

ব্যক্তি জীবনে : নিজের মধ্যে সৃষ্ট বাসনা কামনার ক্ষতিকর প্রভাবকে আয়ত্ত্ব করার জন্য সংযম প্রয়োজন। উপাসনাব্রত বা রোজা সংযম সহায়ক পদ্ধতি। উপবাসে আত্মায় সাদা মৃত্যুর আলো অর্জিত হয়। মহাত্মা গান্ধী বলেন, ”আমি উপবাসে আলো পাই”।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : রাষ্ট্রীয় সকল পর্যায়ে ও জনগণের মধ্যে কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। অপচয় ও অপব্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : জাতিসংঘের উদ্যোগে পালিত বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবসকে বর্ধিত করে একমাস ব্যাপী সমগ্র পৃথিবীতে জীবনের সকল ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কৃচ্ছ্রতা সাধনের অনুশীলন করা, সামরিক ব্যয় হ্রাস করার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন।
মউতে আছওয়াদ − কালো মৃত্যু

ব্যক্তি জীবনে : আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি, বিদ্বেষ, ক্ষোভ দমন ও নিয়ন্ত্রণ। অপরের সমালোচনাকে সহজভাবে গ্রহণ করে নিজের দোষত্রুটি খুঁজে দেখা এবং দোষ মুক্তির চেষ্টা করা। শত্রুর শত্রুতা ও নিন্দাতে মানুষ সাধারণত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ফলে ঝগড়া বিবাদ দ্বন্দ্ব সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়ে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হয়। অথচ শত্রুতা ও নিন্দা সমালোচনার কারণ খুঁজে নিজে সংশোধিত হয়ে গেলে বহু বিরোধীয় পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। এতে আত্মশক্তির বিকাশ ঘটে। বিনা কারণে নিন্দা-সমালোচনা এবং শত্রুতা সৃষ্টি হলেও ধৈর্যধারণ করাই গাউসিয়াত নীতি। ধৈর্যের ফলে পরবর্তী কোন সময়ে বিরোধীরা নিজেই দুর্বল হয়ে নতিস্বীকারে বাধ্য হয়। কাউকে আর শত্রু নয়, সকলকে বন্ধু বলে মনে হবে। এটাই কাল মৃত্যুর গুণজ প্রকৃতি অর্জন।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার নিশ্চিতকরণ। সরকারি দলের একক কৃতিত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা না করা। জাতীয় প্রশ্নে বিরোধী দলের যুক্তিসংগত পরামর্শ গ্রহণ করা ও সরকারের ভুল ত্রুটির প্রতিবাদ, আন্দোলনের জন্য দমন নীতির আশ্রয় না নিয়ে ভুল স্বীকার ও সংশোধনের ব্যবস্থা করা। এভাবে গণতন্ত্র ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে সংঘঠিত সাম্প্রদায়িক-জাতিগত দাংগা, নির্যাতন, গণহত্যা, ধর্ষণ, দেশ থেকে বিতাড়ন ইত্যাদি রোধকল্পে প্রচলিত জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবকে আরো কার্যকরী করে একে ‘বাণিজ্যিক ও সামরিক অবরোধের প্রতীক’ হিসেবে গণ্য করা, যাতে এসব অমানবিক আচরণ দ্রুত বন্ধ হয়।
মউতে আহমর − লাল মৃত্যু

ব্যক্তি জীবনে : লোভ, লালসা, যৌন চিন্তা, কামনা-বাসনা দমন ও সংযতকরণ। কামভাব ও লালসা মানুষকে পাপ পঙ্কিল পথে ঠেলে দেয়। বর্তমান যুগে কামভাব ও লালসার কারণে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা সমাজে বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করেছে। নিজের মধ্যে সৃষ্ট কামভাব ও লালসার ক্ষতিকর শক্তিকে দমন অথবা ধ্বংস করতে পারলে লাল মৃত্যুর গুণ অর্জিত হয়। এই স্তর পর্যন্ত অর্জিত হলে সে ব্যক্তি অলিয়ে কামেল বা সিদ্ধ পুরুষের মধ্যে গণ্য হবেন।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : চরিত্র হননকারী দেশী-বিদেশী ছায়াছবি, নীলছবি, ক্যাবারে ড্যান্স, আনন্দমেলা, ভিডিও, টিভি ইত্যাদিতে রুচিবিরুদ্ধ অপতৎপরতার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। এছাড়া বিভিন্ন পর্ণো ম্যাগাজিন ও পত্র-পত্রিকাতে অশ্লীল ছবির জন্য কড়া সেন্সর আরোপ করা।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ে নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করার আন্তর্জাতিক কনভেনশন স্থির করা। যথেচ্ছাচারী সমকামীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা প্রদান বন্ধ করা।
মউতে আখজার − সবুজ মৃত্যু

ব্যক্তি জীবনে : অল্পে তুষ্ট থাকার মাধ্যমে স্রষ্টার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, বাহুল্য পরিত্যাগ, নির্বিলাস জীবনযাপন। বর্তমান সভ্য জগতে বিলাসবহুল জীবন যাপনের হাতছানি মানুষকে ধন-সম্পদ লাভে, আয়-উপার্জনে বেপরোয়া করে তুলেছে। এজন্য বিশ্বব্যাপী ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, অপরের সম্পদ কুক্ষিগত করার প্রবণতা সাংঘাতিকভাবে বেড়ে গেছে। পৃথিবীর দেশে দেশে শত সরকার পরিবর্তন নানা পদ্ধতির প্রচলনেও এ সমস্যার কোন সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। নির্বিলাস জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে শুধুমাত্র মানুষ নিজেই করতে পারে এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান। সমাজ ও দেশের অধিকাংশ লোকের এমনি জীবনধারা গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টিয়ে অনন্ত সম্ভাবনাময় সত্যিকারের ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠাও সম্ভব। মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত সবকিছু বর্জনে মানব অন্তরে স্রষ্টার প্রেম ভালবাসা ছাড়া অন্য কামনা বাসনা থাকেনা। এটি বেলায়তে খিজরীর অন্তর্গত। শেষের এ চার পদ্ধতিই পবিত্র হাদিসের ”মোতু-কাব্‌লা আন্‌ তামোতু” − মৃত্যুর পূর্বে মরণের সারকথা। এগুলো রেয়াজত বা সাধনা কর্মপদ্ধতি, যা মানবাত্মার উৎকর্ষ সাধনায় সুফি কর্মপন্থা।

জাতীয় প্রেক্ষাপট : সরকারি অফিস আদালত ও বাসগৃহে জমকালো সাজসজ্জা ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ পরিহার করা। সরকারি বেসরকারি বিলাসবহুল সাজসজ্জার ওপর ট্যাক্স আরোপ করা।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট : দাতা দেশগুলো কর্তৃক চড়া সুদে দরিদ্র দেশগুলোকে দেয় ঋণ সুদ মওকুফ করে দেয়া। মহাশূন্য, ভূমি ও ভূগর্ভে সঞ্চিত আল্লাহ্‌র সকল সম্পদ তাঁর প্রিয় সৃষ্টি সর্বশ্রেণীর মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের নীতিমালা তৈরি করা।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, শুধু ব্যক্তি জীবনের উন্নয়ন নয়, মাইজভান্ডারী দর্শন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বলয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। মাইজভান্ডারী দর্শন একটি পরাবাস্তব বা ভাববাদী দর্শন নয় বরং জীবনে জগতের সকল সমস্যার যুগোপযোগী সমাধান দিতে সক্ষম একটি বাস্তব জীবন দর্শন। বর্তমান সমস্যাসংকুল বিশ্বে আত্মবিনাশী মানবজাতিকে এই গাউসিয়াত নীতিই পারে মুক্তির সুপ্রভাতে পৌঁছাতে।

উপরোক্ত সপ্ত পদ্ধতি কোরআনী হেদায়ত ধারা। মানবের জন্য এক নিখুঁত, সহজ সরল ও স্বাভাবিক পথ। তরিকায়ে মাইজভান্ডারীর এটাই মূল দর্শন। শুধু মুসলমান নয়, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলে এ মুক্ত-স্বাধীন বেলায়তের সুধা পান করে স্রষ্টার নৈকট্য লাভে অমর হতে পারেন। মাইজভান্ডারী শিষ্য, অলি ও সাধকগণ ভূমণ্ডলের এ প্রান্তে আকর্ষী সবার সমপ্রিয়। হিতকামী লোকেরা তাঁদের দরবারে সর্বদা ভিড় জমায়। বিপুল লোক সমাগমে তাঁদের স্মৃতি বার্ষিকী-ওরশ শরীফ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়।

Posted in Uncategorized | Comments Off

কবর যিয়ারতের বিশেষ দোয়া কালাম

মৃত্যুর পর মানুষের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।তখন তারা বন্ধুবান্ধব ও আত্নীয়স্বজন থেকে ছওয়াব রেছানীর খুবই প্রয়োজনবোধ করে অপেক্ষা করতে থাকে। কবর যিয়ারতের সময় কতিপয় সুরা পাঠ করার বিশেষ ফজীলত হাদীস শরীফে বর্নিত আছে।
সুরা এখলাস
হযরত আলী রাঃ থেকে বর্নিত , নবী করীম সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাবার সময় ১১ বার সুরা এখলাস পাঠ করে কবরবাসীর জন্য ছওয়াব রেছানী করবে সে ঐ কবরস্থানে দাফনকৃত মৃতদের সংখ্যার সমান ছওয়াব লাভ করবে।
সুরা ফাতেহা ও সুরা তাকাছুরের ফজীলত
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্নিত , নবী করীম সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সুরা ফাতেহা, সুরা এখলাস ও সুরা তাকাছুর পাঠ করে বলবে হে আল্লাহ, আমি তোমার কালাম থেকে যা পাঠ করেছি, তার ছওয়াব এই কবরস্থানের মুমিন নর- নারীদের জন্য দান করলাম, কেয়ামতের দিন তারা তার জন্য সুপারিশকারী হবে।
সুরা ইয়াসিনের ফজীলত
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্নিত , নবী করীম সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সুরা ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা সেই কবরস্থানের মৃতদের আজাব লাঘব করবেন এবং উক্ত ব্যাক্তি সেখানে দাফনকৃত মৃতদের সমান সংখ্যক ছওয়াব লাভ করবে।

এছাড়া সুরা মূলক, আয়তুল কুরছী, সুরা ফালাক, সুরা নাস এবং কোরান মজ়িদ যতটুকু পারা যায় তেলোয়াত করা ভাল।

Posted in Uncategorized | Comments Off

সুরা তাকছুর বাংলা উচ্চারন ও অর্থ যা কবর যিয়ারতের সময় বিশেষ দরকারী

সুরা তাকাছুরের মাধ্যমে আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে হেভি ওয়ার্নিং দিয়েছেন।
পরম করুনাময় ও অত্যন্ত দাতা আল্লাহর নামে

১।আল হা কুমুত তাকাছুর
প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে।

২।হাত তা ঝুর তুমুল মাকাবীর
এমনকি তোমরা কবর পর্যন্ত পৌছে যাও।
৩।কাল্লা ছাওফা তা’ লামুন
এটা কখনও উচিত নয়, তোমরা শিগগিরই জেনে যাবে।

৪।ছুম্মা কাল্লা ছাওফা তা’ লামুন
অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা শিগগিরই জেনে যাবে।

৫।কাল্লা লাও তা’ লামুনা ইল মাল ইয়াকীন
কখনই নয় ; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।

৬।লা তারা উন্নাল জাহীম
তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে,

৭।ছুম্মা লা তারা উন্না হা আইনাল ইয়াকীন
অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য-প্রত্যয়ে,

৮।ছুম্মা লা তুছ আলুন্না ইয়াও মা ইঝিন আনিল নায়িম।
এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিগ্গাসিত হবে।

Posted in Uncategorized | Comments Off

দোয়া ও মোনাজাত

আমরা মোনাজাতে যা বলি তার বাংলা অর্থ জানার একটা ইচ্ছা ছিল ,আজ যতটুকু জানলাম তাই লিখলাম
দোয়া বা মোনাজাতের পূর্বে দরুদে ইব্রাহিম পড়া উত্তম।
এক হাদীসে বর্নিত আছে, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা নির্ধারিত আছেন যখন কোন ব্যাক্তি ৩ বার “ ইয়া আর হামার রাহেমিন ” ( হে সকল দয়াশীলদের চেয়ে বড় দয়াশীল) তখন উক্ত ফেরেশতা ঐ ব্যাক্তিকে বলেন, নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় দয়াশীল তোমার প্রতি মনযোগী আছেন, এখন তুমি যা ইচ্ছা তাই চাও(তোমার দোয়া নিশ্চয়ই কবুল হবে)
এরপর আল্লাহতায়ালার গুনবাচক নামগুলো বলা যেতে পারে এবং সেভাবে চাওয়া যেতে পারে
আউজুবিল্লাহি আন আকুনা মিনাল জাহেলিন। (আমি আল্লাহতায়ালার নিকট মূর্খের ন্যায় দোয়া করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
কেননা অনেক সময় আমরা এমন কিছু চেয়ে ফেলি যা হয়ত আখের আমাদের জন্য ভাল নয়।
রাব্বানা জালাম না আন ফুছানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তার হামনা লা নাকুনান্না মিনাল খসিরিন। (হে আমাদের রব, আমরা আমদের নিজেদের উপর অত্যাচার করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের দল ভুক্ত হয়ে যাব।)
রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আন্তাছ সামিয়্যুল আলীম ওয়া তুব আলাইনা ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রহীম। (হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের যাবতীয় সতকর্মসমূহ কবুল করুন। অবশ্য আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন এবং আমাদের তওবাকে কবুল করুন। আপনিই এক মাত্র বান্দার তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।)
লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সোবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জোয়ালিমিন। (কোন মাবুদ নেই আপনি ছাড়া। আপনি পূত ও পবিত্র, অবশ্য আমি আমার আত্নার উপর অত্যাচারকারী।)
এস্তেগফার পড়া যেটা আপনার জানা আছে
আল্লাহুম্মা ইন্না নাস আলুকা জান্নাতি ওয়া ইন্না নাউজুবিকা মিনান নার।(হে আল্লাহ নিশ্চয়ই আমরা আপনার নিকট জান্নাত চাই এবং দো্যখ থেকে আশ্রয় ভিক্ষা চাই।)
এক হাদীসে বর্নিত আছে যে, যখন কোন ব্যাক্তি ৩ বার আল্লাহর নিকট জান্নাত কামনা করে তখন জান্নাত বলে হে আল্লাহ এই ব্যাক্তিকে জান্নাতে দাখিল করে দিন এবং যখন কোন ব্যাক্তি ৩ বার আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে নাজাত চায় তখন জাহান্নাম বলে হে আল্লাহ আপনি এই ব্যাক্তিকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দান করুন।
লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আযীম।(কোন লক্ষ্য অর্জনের শক্তি মহান আল্লাহতায়ালার কাছ থেকেই পাওয়া যেতে পারে।)
রাব্বানা লা তু ওয়া খিজ না ইন্না ছি না আও আখ ত না রব্বানা ওয়া তাহ মিল আলাইনা ইছ্রান কামা হামাল তা হু আলাল্লাঝী না মিন কাব লিনা রব্বানা ওয়ালা তু হাম্মিল না মা লা ত কা তা লা না বিহী ওয়া ফু আন্না ওয়াগ ফির লানা ওয়ার হাম না আন্তা মাওলানা ফান ছুর না আলাল কাওমিল কাফেরিন। (আয় আল্লাহ ! আমাদের ভুল ত্রুটি ধরবেন না ।আয় আল্লাহ ! আমাদের উপর জারি করবেন না কোন কঠোর আইন পূর্ববর্তী উম্মতগনের ন্যায়। আয় আল্লাহ ! আমাদের শক্তির বাইরে কোন হুকুম জারি করবেন না এবং আমাদের অন্যায় ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের ত্রুটি মার্জনা করে দিন। এবং আমাদের প্রতি দয়ার নজর দান করুন ।আপনিই আমাদের একমাত্র মালিক অতএব আমাদের কাফিরদের মোকাবেলায় জয়যুক্ত করুন।)
রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা অজুররিই ইয়াতিনা কুররাতা আউনিউ ওয়াজআল্‌না লিলমুত্তাকিনা ইমামা।(হে আমাদের প্রভু। আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মাধ্যমে চক্ষুর স্নিগ্ধতা দান কর। আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানাও)
রাব্বানা আ তিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আযাবান নার (হে আল্লাহ আপনি আমাদের দুনিয়াতেও শান্তি দান করুন এবং আখেরাতেও শান্তি দান করুন এবং আমাদের আযাব হতে মুক্তি দিন )
সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইজ্জাতি আ’ম্মা ইয়াসিফুনা।ওয়া সালামুন আ’লাল মুরসালিনা। ওয়ালহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামিনা (পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র যা তারা বর্ণনা করে তা থেকে।পয়গম্বরদের প্রতি সালাম র্বষিত হোক।সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত)
সবার প্রতি অনুরোধ রইল কুরআন থেকে আরবী উচ্চারণ দেখে পড়ার

Posted in উপদেশ ও বানী চিরন্তন | Comments Off

সংকটের সময় নবী-রাসূলদের তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসার দৃষ্টান্ত

ইয়াকুব [আ:]
হযরত ইয়াকুব [আ:] এর ছেলে ইউসুফ হারিয়ে গেছেন । দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাঁর কোন সংবাদই পাওয়া যায়নি । সময় এত বেশী অতিবাহিত হয়ে গেলো যে, তাঁকে ফিরে পাওয়ার সব আশা-ভরসাই নি:শেষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তা সত্বেও ইয়াকুব [আ:] কিছুমাত্র নিরাশ হননি । সন্তান হারানোর বেদনা যখন তীব্র ও দু:সহ হয়ে উঠলো, তখন তিনি বললেন:

ইন্নামা আশকুউ বাসসি ওয়া হুজনি ইল্লাল্লাহি (সুরা ইউসুফ-৮৬)
বাংলা অর্থ: “আমি আমার দু:খ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি ।”

তিনি তাঁর সন্তানদের সম্বোধন করে বললেন–
ওয়ালা তাইআসু মির রাওহিল্লাহি ইন্নাহু লা ইয়ায়াসু মির রাওহিল্লাহি ইল্লাল কাওমুল কাফিরুন (সুরা ইউসুফ-৮৭)
বাংলা অর্থ: “তোমারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। কেননা আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত আর কেউ নিরাশ হয় না।”

আইয়ুব [আ:]

হযরত আইয়ুব [আ:] অত্যন্ত কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন । অবস্থা এমন দাঁড়ি্য়েছিল যে একমাত্র জিহ্বা ব্যতীত তাঁর সমস্ত দেহে পোকা এসে গিয়েছিল। হযরত আইয়ুব [আ:] রোগে-শোকে জর্জরিত ও নিকটাত্মীয়দের দ্বারা পরিত্যক্ত হয়ে আল্লাহকে ডেকে বলেছিলেন–

রাব্বি আননি মাসসানিয়ায যুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন (সুরা আম্বিয়া- ৮৩)
বাংলা অর্থ: ” হে আল্লাহ আমি দু:খ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ দয়াবান। ”

ইউনুস [আ:]

হযরত ইউনুস [আ:] সমুদ্রে মাছের পেটের মধ্যে বন্দী হয়ে কাতর কন্ঠে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালেন–

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ যলিমীন (সুরা আম্বিয়া- ৮৭)
বাংলা অর্থ: ” হে আল্লাহ ! তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নাই, তুমি পবিত্র, মহান। আর আমি তো জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। ”

মহানবী [স:]

হযরত মুহাম্মদ [স:] কে কাফিররা তাড়া করেছে । তিনি সওর গুহায় আশ্রয় নিলেন। সংগে আবুবকর [র:] । কাফিররা তাঁকে ধরার জন্য অনুসন্ধান চালাতে শরু করলো । খুঁজতে খুঁজতে একসময় তারা গুহার মুখের ওপর এসে দাঁড়াল। নিছের দিকে তাকালেই তারা মুহাম্মদ [স:] কে দেখটএ পারে । এসময় অবস্থা এমন সংকটাপন্ন ছিলো যে; না ছিলো আকাশে উড়ে যাওয়ার উপায়, না ছিলো জমীনে ধ্বসে যাওয়ার কোন পথ । হযরত আবুবকর [র:] ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করলেন। তখ নবী করীম [স:] বললেন–

লা তাহজান ইন্নাল্লাহা মাআনা (সুরা তওবা- ৪০)
বাংলা অর্থ: “দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ো না । আল্লাহ আমাদের সংগেই আছেন ।”

ওপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই আল্লাহতাআলা তাঁদেরকে শোচনীয়-দু:সহ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। এ জন্য যেকোন পরিস্থিতিতে আমাদের আল্লাহর ওপরই ভরসা করতে হবে, তা যত কঠিন হোক না কেন । আর আল্লাহ তো কোরআনে বলেই দিয়েছেন তাঁর সাহায্য অত্যন্ত নিকটবর্তী ।

Posted in উপদেশ ও বানী চিরন্তন | Comments Off